চিকেন

ব্রয়লার মুরগির মাংস কেন খাব

দেশি মুরগির মাংসের চেয়ে বেশি জুসি, নরম, চর্বি সমৃদ্ধ হওয়ায় আর দেশি মুরগি থেকে তুলনামূলক ভাবে বেশি সহজলভ্য হওয়ায় ব্রয়লার মুরগির মাংস আমাদের খাদ্য তালিকায় একটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে। এই সুযোগে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী নিম্নমানের ব্রয়লার মুরগির মাংস বাজারে সরবরাহ করে চলেছে, যা মানব স্বাস্থ্যের জন্য হুমকি স্বরূপ।

প্যারাগন এগ্রো লিমিটেড স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশে উৎপাদিত ব্রয়লার মুরগির মাংস ও ডিম বাজারে সরবরাহ করে আসছে।  স্বাস্থ্যসম্মত ব্রয়লার মুরগির মাংস আমাদের দৈনন্দিন প্রোটিনের চাহিদা পূরণের জন্য খুবই জরুরী। আমাদের গ্রাহকদের জানানোর উদ্দেশ্যে প্রিয়া আর্টিকেলে আমরা আজকে আলোচনা করব ব্রয়লার মুরগির মাংসের পুষ্টিগুণ গুনাগুন, এবং স্বাস্থ্যসম্মত ব্রয়লার মুরগির মাংস কেন খাওয়া উচিত সে বিষয়ে। তবে চলুন, আর দেরি না করে শুরু করা যাক।

ব্রয়লার মুরিগী কি

সাধারণ মুরগির থেকে ব্রয়লার মুরগির সবচেয়ে বড় পার্থক্যটি হচ্ছে তাদের লালন-পালন করার পরিবেশে। দেশি মুরগি প্রাকৃতিক পরিবেশে বড় হয়, প্রকৃতি থেকে তাদের খাবার সংগ্রহ করে ,আর সারাদিন আমাদের  চারপাশের প্রকৃতিতেই ঘুরে বেড়ায়। যার ফলাফল হিসেবে দেশি মুরগির মাংসের চর্বির পরিমাণ তুলনামূলকভাবে অনেক কম থাকে এবং মাংসপেশি প্রচুর পরিমাণে থাকে। এছাড়াও দেশি মুরগির হাড়ের জয়েন্ট এবং হার তুলনামূলকভাবে শক্ত হয়ে থাকে।

অন্যদিকে ব্রয়লার মুরগি একটি নিয়ন্ত্রিত ইনডোর পরিবেশে  জন্মায়/বড় হয় এবং নিয়ন্ত্রিত খাদ্য উপাদান গ্রহণ করে থাকে।  সুতরাং ব্রয়লার মুরগির মাংসের চর্বির পরিমাণ তুলনামূলকভাবে অনেক বেশি থাকে এবং মাংসপেশির পরিমাণ কম থাকে। ব্রয়লার মুরগির ক্ষেত্রে, সব ধরনের মুরগি একই ধরনের খাবার গ্রহণ করে আর কোন ধরনের শারীরিক কার্যক্রমে অংশ নেয় না। ব্রয়লার মুরগির মাংস তুলনামূলকভাবে নরম হয়ে থাকে। প্যারাগন এগ্রো লিমিটেড  অত্যাধুনিক পদ্ধতিতে নিয়ন্ত্রিত উপায় স্বাস্থ্যসম্মত এবং এন্টিবায়োটিক মুক্ত ব্রয়লার মুরগির মাংস উৎপাদন করে যাচ্ছে।

মাংসের পুষ্টি গুণাগুণ

ব্রয়লার মুরগির মাংস প্রোটিনের এক চমৎকার উৎস। এটি খেতে যেমন সুস্বাদু, পুষ্টিগুণে ঠিক তেমনি সমৃদ্ধ। কার্বোহাইড্রেট সমৃদ্ধ  ডায়েটের চমৎকার বিকল্প হতে পারে ব্রয়লার মুরগির মাংস। বিশেষত যারা ডায়াবেটিস রোগে ভুগছেন তাদের জন্য, শর্করা বিহীন খাদ্য হিসেবে ব্রয়লার মুরগির মাংসের তুলনা নেই। চলুন দেখে নেই ১০০ গ্রাম কাঁচা ব্রয়লার মুরগির ব্রেস্ট পিসে কি পরিমাণ পুষ্টি উপাদান রয়েছে।

উপাদান  পরিমাণ
প্রোটিন ১৪.০৫ গ্রাম
কোলেস্টেরল ৭৯ মিলিগ্রাম
রেটিনোল ৭৫ মাইক্রো গ্রাম
ফ্যাট ২৮.৪ গ্রাম
সম্পৃক্ত ফ্যাটি এসিড ৮.৩৪ গ্রাম
অসম্পৃক্ত ফ্যাটি এসিড ১৮.৩৯ গ্রাম
ক্যালসিয়াম ১৩  মিলিগ্রাম
কপার ০.০৪৭ মিলিগ্রাম
আয়রন ০.৯৪ মিলিগ্রাম
ম্যাগনেসিয়াম ১৫  মিলিগ্রাম
ভিটামিন এ ২৫১ IU
ফসফরাস ১১৩ মিলিগ্রাম
পটাশিয়াম ১৪৪ মিলিগ্রাম
সোডিয়াম ৬৪  মিলিগ্রাম
জিংক ১.২৬  মিলিগ্রাম
ভিটামিন সি ১.৬ মিলিগ্রাম
ভিটামিন বি 12 ০.২৫ মাইক্রোগ্রাম
ভিটামিন ই ০.৩৭  মিলিগ্রাম
ভিটামিন কে ২.৪ মাইক্রোগ্রাম

সূত্রঃ নিউট্রিশন ভ্যালু

কেন খাব ব্রয়লার মুরগীর মাংস

আমাদের সারাদিনের দৈহিক প্রোটিনের চাহিদা অনেকাংশে পূরণ করতে সক্ষম ব্রয়লার মুরগির মাংস। এছাড়া এ মাংস টি খেতে সুস্বাদু এবং নরম। ফ্যাট কনটেন্ট বেশি হওয়ায়, সুস্বাদু নানা ধরনের চিকেন রেসিপি তৈরি করে নিজের প্রতিদিনের প্রোটিনের চাহিদা অধিকাংশই যোগান দেয়া সম্ভব।প্রোটিন ছাড়াও নানা ধরনের উপকারী ভিটামিনের একটি ভালো উৎস হচ্ছে ব্রয়লার মুরগির মাংস।তবে যে কারণে মুরগির মাংস অন্য সব খাবারকে পেছনে ফেলে সামনে এগিয়ে যায় তা হচ্ছে অ্যামিনো এসিডের পরিমাণ। মুরগির মাংসে অ্যামিনো এসিডের একটি চমৎকার সমারোহ দেখা যায়, যা আপনার শারীরিক নানা ধরনের কর্মকাণ্ড পরিচালনার জন্য অতীব গুরুত্বপূর্ণ।

আমাদের শরীরের মাসল টিস্যু তৈরিতে অ্যামিনো এসিড খুব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। আর আমরা যত বড় হতে থাকে, আমাদের শরীরের মাসল টিস্যু উৎপাদনের প্রক্রিয়া তত দুর্বল হতে থাকে। আর তাই এই প্রক্রিয়ার উন্নতি ধরে রাখতে গেলে, আমাদের শরীরে নিয়মিত বিভিন্ন ধরনের অ্যামিনো এসিডের যোগান দেওয়া আবশ্যক।

বেশ কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, আমাদের প্রতি বেলার খাবারে ২৫-৩০ গ্রাম প্রোটিন থাকে দরকার। যাতে করে আমাদের ক্ষুধাও কম লাগবে সারাদিন, আবার পুষ্টির চাহিদাও  পূরণ হয়ে যাবে।পরিমিত মাত্রায় ব্রয়লার মুরগির মাংস খাওয়া আমাদের নানা ধরনের হৃদরোগ, অস্টিওপোরোসিস জাতীয় রোগ থেকেও দূরে থাকতে সহায়তা করে থাকে।

এছাড়াও ব্রয়লার মুরগির মাংস থেকে পাওয়া বিশেষ ধরনের অ্যামিনো এসিড “ ট্রিপটোফেন” আমাদের শরীরের “ভালোলাগার হরমোন”  খ্যাত সেরোটোনিন (Serotonin) এর উৎপাদন বৃদ্ধি করতে সাহায্য করে থাকে। যার ফলে ব্রয়লার মুরগির মাংস আমাদের প্রফুল্ল মন মানসিকতা, ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি ইত্যাদি ধরে রাখতে সহায়তা করতে পারে।

স্বাস্থ্যজনিত নানা কারণেই অনেকেই রেডমিট খেতে পারেন না। তাদের জন্য একটি আদর্শ বিকল্প হতে পারে ব্রয়লার মুরগির মাংস, কেননা এতে পুষ্টি ও সাদ, দুটোই পাবেন, তাও কোনরকম স্বাস্থ্যঝুঁকি ছাড়াই।

এছাড়াও, ব্রয়লার মুরগির মাংস বা গুড কোলেস্টেরলের খুব ভালো একটি উৎস। তাই আপনার শারীরিক উন্নতির  জন্য আপনি আপনার প্রতিদিনের খাদ্য তালিকা নিঃসন্দেহে ব্রয়লার মুরগির মাংস যোগ করতে পারেন।

শেষকথা

আমাদের দেশ প্রধানত একটি কার্বোহাইড্রেট নির্ভর খাদ্য তালিকা মেনে চলে। আর শারীরিক নানা ধরনের অসুস্থতা প্রধান উৎস হচ্ছে এই কার্বোহাইড্রেট বা শর্করা। আর তাই সম্প্রতি চিকিৎসকেরা সুস্থ স্বাভাবিক জীবন যাপনের জন্য কার্বোহাইড্রেট নির্ভর খাদ্য তালিকা থেকে প্রোটিন এবং ভিটামিন নির্ভর খাদ্যতালিকার প্রতি গুরুত্ব দিচ্ছেন। পোল্ট্রি প্রযুক্তির অভূতপূর্ব উন্নয়নের ফলে ব্রয়লার মুরগির মাংস এখন আগের থেকে অনেক উন্নত,পরিচ্ছন্ন  এবং স্বাস্থ্যসম্মত।

আর তাই আপনার প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় একটু একটু করে প্রোটিন নির্ভর খাদ্য অন্তর্ভুক্ত করলে আপনি নিশ্চিত করতে পারবেন আপনার এবং আপনার পরিবারের সকলের সুস্বাস্থ্য।  আর এই সুস্বাস্থ্যের যাত্রা শুরু হতে পারে সুস্বাদু এবং স্বাস্থ্যকর, কার্বোহাইড্রেট বিহীন, প্রোটিন এবং ভিটামিনে ভরপুর কোন একটি চিকেন রেসিপি এর মাধ্যমে। ভালো জিনিস খান, ভালো থাকুন।

Back to list

Leave a Reply