ডিম

ডিমের পুষ্টিগুন ও উপকারিতা

প্রতিনিদিনের খাদ্য তালিকায় ডিম সবচেয়ে পুষ্টিকর খাবারগুলির মধ্যে একটি যা আপনার প্রয়োজনের প্রায় প্রতিটি পুষ্টি উপাদানের সামান্য পরিমাণ ধারণ করে। প্রয়োজনীয় পুষ্টি পাওয়ার পাশাপাশি ডিমের রয়েছে আরো অনেক উপকারিতা। একটি ডিম থেকে যেসব পুষ্টি উপাদান পাওয়া যায় এবং তাদের উপকারিতা নিয়ে আলোচনা করা হলো:

  • ক্যালরি: একটি ডিম থেকে সাধারণত ৭৭ ক্যালরি পাওয়া যায়। যা শক্তি জোগায় এবং ক্ষুধা কমায়। সকালের নাশতায় একটি ডিম সারা দিনের পুষ্টি চাহিদা অনেকটুকুই পূরণ করতে সহায়তা করে।

  • প্রোটিন: ডিম প্রোটিনের একটি ভালো উৎস যা মাংসপেশি গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ডিমের প্রোটিন শরীরে খুব সহজে শোষিত হয়। শরীরের গঠন ও ক্ষয়পূরণের জন্য প্রোটিন অত্যাবশ্যকীয়। এ ছাড়া প্রোটিন বিভিন্ন অঙ্গ, ত্বক, চুল এবং শরীরের বিভিন্ন টিস্যু পুনর্গঠনে সহায়তা করে।

  • আয়রন: ডিম থেকে যে আয়রন পাওয়া যায়, তা শরীরে খুব সহজে শোষিত হয়। এই আয়রন শরীরের বিভিন্ন কোষে অক্সিজেন সরবরাহ করে এবং আয়রনের অভাবজনিত রক্তস্বল্পতা দূর করতে সাহায্য করে।

  • ভিটামিন এ: ডিম থেকে ভিটামিন এ পাওয়া যায়। এই ভিটামিন এ ত্বক এবং চোখের কোষের সুস্থতা দান করে এবং আপনার চোখের দৃষ্টিশক্তি ভালো রাখে ও চোখকে ছানি পরা, রাতকানা রোগ প্রতিরোধ করতে সহায়তা করে।

  • ভিটামিন ডি: ভিটামিন ডির একটি ভালো খাদ্য উৎস হচ্ছে ডিম। ভিটামিন ডি পেশী ব্যাথা কমাতে সাহায্য করে। কিছু কিছু ক্যানসার কোষ প্রতিরোধে সহায়তা করে এবং রোগ প্রতিরোধের ক্ষমতা বাড়ায়।

  • ভিটামিন ই: ভিটামিন ই দেহে অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করে। স্বাস্থ্যোজ্জ্বল ত্বক ও চুলের জন্য ভিটামিন ই গুরুত্বপূর্ণ। এটি শরীরকে সুস্থ রাখে এবং রোগ প্রতিরোধ করতে সহায়তা করে।

  • ভিটামিন বি-১২: ডিমে রয়েছে ভিটামিন বি-১২ যা সহজে ক্লান্ত হওয়া থেকে রক্ষা করবে এবং শরীরকে এনার্জি প্রদান করবে দীর্ঘসময়। এটি হৃদরোগ প্রতিরোধ করতে সহায়তা করে এবং হার্ট সুস্থ রাখে।

  • ফলেট: ডিমে ফলেট থাকে, যা নতুন কোষ গঠনে সাহায্য করে। ফলেট এর অভাবজনিত রক্তস্বল্পতা প্রতিরোধে সহায়তা করে। গর্ভবতী মায়েদের জন্য ফলেট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি শিশুর জন্মগত ত্রুটি দূর করতে সহায়তা করে।

  • সেলেনিয়াম: ডিম থেকে সেলেনিয়াম পাওয়া যায়। এটি ভিটামিন ই-এর সঙ্গে অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করে, যা শরীরের বিভিন্ন টিস্যুর ক্ষয় রোধ করে এবং রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে।

  • কোলিন: ডিমের কুসুমে কোলিন থাকে। এটি আমাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি উপাদান। কোলিন মস্তিষ্কের বিকাশ এবং কার্যক্ষমতা বাড়াতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। সেই সঙ্গে মস্তিষ্কের সুস্থতা বজায় রাখে।

  • কোলেস্টেরল: একটি বড় সেদ্ধ ডিম থেকে প্রায় ১৮৬.৫ গ্রাম কোলেস্টেরল পাওয়া যায়। বর্তমান গবেষণায় জানা গেছে, ডিম থেকে যে কোলেস্টেরল পাওয়া যায় তা আমাদের শরীরে বিশেষ কোনো ক্ষতি করে না।

ডিম পুষ্টি উপাদানে ভরপুর একটি প্রাকৃতিক খাদ্য। সবজায়গায় খুব সহজে এবং সাশ্রয়ী মূল্যে পাওয়া যায় ডিম, যাতে রয়েছে প্রয়োজনিয় প্রায় সকল ভিটামিন ও খনিজ যা স্বাস্থ্যকর ডায়েট এর জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

Reference: 

কেন খাবেন ডিম | প্রথম আলো (prothomalo.com)

Leave a Reply